শ্রীশ্রীহরিঃ
শ্রীঅর্থপঞ্চক
শ্ৰীমদ্-রামানুজীয় প্রশিষ্য শ্রীলোকাচার্য্য মহাশয় এই গ্রন্থ রচনা করিয়াছেন। সংসারি জীবের তত্ত্বজ্ঞানোৎপত্তির জন্য এই অর্থপঞ্চক নিতান্ত আবশ্যক। (ইহাতে) স্ব-স্বরূপ, পর-স্বরূপ, পুরুষাৰ্থ-স্বরূপ, উপায়-স্বরূপ ও বিরোধি-স্বরূপ-রূপ পাঁচটী অর্থের জ্ঞান ও তদ্বিবরণ লিখিত হইয়াছে।
(ক) জীবের স্ব-স্বরূপ―১। নিত্য, ২। মুক্ত, ৩। বদ্ধ, ৪। কেবল, ৫। মুমুক্ষু।
(খ) ঈশ্বরের পর-স্বরূপ—১। পর, ২। ব্যূহ, ৩। বিভব, ৪। অন্তর্য্যামী, ৫। অর্চ্চাবতার।
(গ) পুরুষার্থ-স্বরূপ—১। ধৰ্ম্ম, ২। অর্থ, ৩। কাম, ৪। আত্মানুভব, ৫। ভগবদনুভব।
(ঘ) উপায়-স্বরূপ—১। কৰ্ম্ম, ২। জ্ঞান, ৩। ভক্তি, ৪। প্রপত্তি, ৫। আচার্য্যাভিমান।
(ঙ) বিরোধি-স্বরূপ—১। স্বরূপবিরোধী, ২। পরত্ববিরোধী, ৩। পুরুষার্থবিরোধী, ৪। উপায়বিরোধী। ৫। প্রাপ্যবিরোধী। ক ১ নিত্যজীব ― সৰ্ব্বদা সংসারসম্বন্ধদোষ – র হি ত, ভগবৎ- আনুকূল্যমাত্র ভোগযুক্ত, বৈকুণ্ঠনাথের মন্ত্রণাযোগ্য, ঈশ্বরনিয়োগ সৃষ্টি-স্থিতি-সংহার-করণে সমর্থ, ঈশ্বরের সর্ব্বাবস্থায় কৈঙ্কৰ্য্যশী বিশ্বক্সেনাদি অমর-বৃন্দ।
ক ২ মুক্তজীব ― ভগবৎ প্রসাদে যাঁহাদের প্রকৃতি – সম্বন্ধজনিত ক্লেশমল নিবৃত্তি হইয়াছে, (সেই) ভগব্দানন্দে উৎফুল্ল, স্তবপরায়ণ, সন্তোষানন্দ, বৈকুণ্ঠে, বর্ত্তমান মুনিগণ।
ক ৩ বদ্ধজীব― পাঞ্চভৌতিক অনিত্য সুখদুঃখানুভবী, আত্মদর্শনে স্পর্শনে অযোগ্য, অশুদ্ধ, অজ্ঞান, অন্যথাজ্ঞান ও বিপরীতজ্ঞানজনক দেহে আত্মবুদ্ধিযুক্ত, স্বদেহ পোষণে রত, বর্ণাশ্রমধর্ম্মবিরুদ্ধ অসেব্যসেবা, ভূতহিংসা, পরদার-পরদ্রব্যপহরণ করতঃ সংসার-বর্দ্ধক ভগবদ্বিমুখ চেতনগণ।
ক ৪ কেবলজীব―কেবলজীব একক। ক্ষুৎপিপাসায় পীড়িত হইয়া অন্যবস্তুর অভাবে আপনাকে আপনি ভক্ষণ পান করেন। যোগাদি-বাসনার্জ্জিত কৈবল্য প্রাপ্ত জীবই কেবলজীব।
ক ৫ মুমুক্ষু―মুমুক্ষু জীবসকল সংসার-দাবাগ্নিতপ্ত হইয়া সংসারদুঃখনিবৃত্তির জন্য জ্ঞানদ্বারা প্রকৃত আত্মবিবেক লাভ করতঃ প্রকৃতিকে দুঃখাশ্রয় হেয়পদার্থ-সমূই-স্বরূপ, আত্মাকে প্রকৃতি হইতে পরতত্ত্ব স্বরূপ এবং স্বয়ংপ্রকাশ, স্বতঃসুখী, নিত্য অপ্রাকৃত-স্বরূপ জানেন। আনন্দময় পরমাত্মবিবেককে অশক্ততাবশতঃ প্রকৃতির অল্পরসে আপনাকে পূর্ব্বে দুঃখিত থাকা বোধ করেন। আত্মপ্রাপ্তিসাধক জ্ঞানযোগ-নিষ্ঠাফলস্বরূপ আত্মানুভবই একমাত্র পুরুষাৰ্থ-বোধে সিদ্ধ অপ্রাকৃত-শরীর-প্রাপ্তি পর্য্যন্ত এই জগতে বর্ত্তমান থাকেন। মুমুক্ষুগণ উপাসক ও প্রপম্ন-ভেঙ্গে দ্বিবিধ।
খ ১ পরতত্ত্ব―পর-শব্দে পরমেশ্বর। নিত্যবর্ত্তমান আদি জোতিঃরূপ পর বাসুদেব।
খ ২ ব্যূহতত্ত্ব― সৃষ্টি-স্থিতি-সংহারকৰ্ত্তা সঙ্কৰ্ষণ, প্রদ্যুম্ন,অনিরুদ্ধ।
খ ৩ বিভবতত্ত্ব― রামাদি অবতার।
খ ৪ অন্তর্যামিতত্ত্ব― দুই প্রকার। দাসের অন্তঃকরণে প্রবিষ্ট পরমাত্মা। বাসুদেব আমার প্রাণস্বরূপ― এইরুপ চিন্তা হইতে স্বয়ং প্রবিষ্ট হইয়া বিচারবান্ পুরুষের অন্তঃকরণে সৰ্ব্বাঙ্গসুন্দর লক্ষ্মীর সহিত বর্ত্তমান পরমসুন্দর নারায়ণ।
খ ৫ অর্চ্চাবতার ― দাসগণের অভিমত নাম ও রূপবিশিষ্ট উপাস্য-মূর্ত্তি। সর্ব্বজ্ঞ হইয়াও অজ্ঞপ্রায়, সর্ব্বশক্তি হইয়াও অশক্তপ্রায়, পূর্ণকাম হইয়াও সাপেক্ষায়, রক্ষক হইয়াও রক্ষপ্রায়, স্বয়ং স্বামী হইয়াও ভক্তের স্বামিপ্রায়-মন্দিরে বর্ত্তমান।
গ ১ ধর্ম্ম ― প্রাণিরক্ষার একমাত্র উপায়রূপ। বৃত্তির নাম ধর্ম্ম।
গ ২ অর্থ ― বর্ণাশ্রমানুরূপ ধনধান্য সংগ্রহপূর্ব্বক দেবতা-পিতৃ-কর্ম্মে ও প্রাণিরক্ষা-বিষয়ে উৎকৃষ্ট দেশ-কাল-পাত্র বিচারপূর্ব্বক ধৰ্ম্মবুদ্ধিতে ব্যয় করার নাম অর্থ।
গ ৩ কাম ― কাম দুই প্রকার ― ইহলৌকিক ও পারলৌকিক। পিতৃ-মাতৃ-রত্ন-ধন-ধান্য-অন্ন-পানীয়-দারা-পুত্র-মিত্র-পশু-গৃহ-ক্ষেত্র-চন্দন-কুসুম-তাম্বুল- ব স্ত্রা দি পদার্থে শব্দাদি-বিষয়ানুভব-জনিত সুখস্পৃহা।
গ ৪ আত্মানুভব ― দুঃখনিবৃত্তিমাত্র অনুভব কেবল-আত্মানুভব হয়। ইহাই কি প্রকার মোক্ষ।
গ ৫ ভগবদনুভব ― ভগবদনুভবই পরমপুরুষার্থ-লক্ষণ মোক্ষানুভব। প্রারব্ধ কৰ্ম্ম ও পুণ্য-পাপ নাশে – অস্তি, জায়তে, পরিণমতে, বিবৰ্দ্ধতে, স্বপক্ষীয়তে, বিনশ্যতি তাপত্রয়াশ্রিত এই ছয় বিকার-রহিত হইলে ভগবত-স্বরূপ আবরণপূর্ব্বক বিপরীতজ্ঞানোৎপাদক সংসার-বর্দ্ধক স্থূলশরীর পরিত্যাগ করতঃ সুষুম্নানাড়ীদ্বারে শিরঃ কপাল ভেদপূর্ব্বক নির্গত হইয়া সূক্ষশরীরে অর্চ্চিরাদি মণ্ডলে প্রবেশপূর্ব্বক বিরজা-স্নানে সূক্ষ্মশরীর ও বাসনা-রেণু দূরকরতঃ সকল তাপ নিবর্ত্তক শ্রীবিগ্রহকরস্পর্শ লাভ করেন। তখন শুদ্ধসত্ত্বস্বরূপ পঞ্চোপনিবন্ময়, জ্ঞানানন্দজনক ভগবদনুভবপর তেজোময় অপ্রাকৃত দেহ প্রাপ্ত হইয়া কিরীটযুক্ত অমরগণমধ্যে মহামণি-মণ্ডপে ভূ-শ্রী-লীলা-সহিত বর্ত্তমান পরব্যোমনাথকে নিত্য অনুভবপূর্ব্বক তদীয় নিত্য-কৈঙ্কর্য্যে বর্ত্তমান থাকেন।
ঘ ১ কর্ম্ম ― যজ্ঞ, দান, তপঃ, ধ্যাম, সন্ধ্যাবন্ধন, পঞ্চমহাযজ্ঞাদি, অগ্নিহোত্র, তীর্থযাত্রা, পুণ্যক্ষেত্রবাস, কৃচ্ছ্রচান্দ্রায়ণ, পূণ্যনদীস্নান, ব্রত, চাতুর্ম্মাস্য, ফল-মূলাশন, শাস্ত্রাভ্যাস, ভগবৎসমারাধন, জপ, তর্পণ, কায়শোধন ও পাপনাশাদি কার্য্যে শব্দাদি বিষয় গ্রহণকে কর্ম্ম বলা যায়। যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধিরূপ অষ্টাঙ্গযোগও কর্ম্মাঙ্গ।
ঘ ২ জ্ঞান ― আত্মতত্ত্বালোচনার নাম জ্ঞান। এই জ্ঞান যোগের সহকারী ঐশ্বর্য্যের প্রধান স্থান হৃদয়-মণ্ডল ও আদিত্য-মণ্ডলে বর্ত্তমান সর্ব্বেশ্বরকে লক্ষ্মীসহিত পদ্ম-শঙ্খ-চক্র-গদা-ধারিরূপে অনুভব। এই শেষোক্ত জ্ঞান ভক্তিষোগের সহকারী।
ঘ ৩ ভক্তি ― তৈলধারার ন্যায় অবিচ্ছিন্ন ভগবৎ-স্মৃতি-বিস্তাররূপ অনুভবকে প্রীতিরূপে আনিবার যোগ্যবৃত্তির নাম ভক্তি। ভক্তির স্বরূপ, এই যে, তাহা প্রারব্ধ কৰ্ম্ম নিবৃত্তি উপায়রূপ সাধ্যসাধন অনুষ্ঠানদ্বারা আত্মার সঙ্কোচ বিকাশ করিতে যোগ্য হয়।
ঘ ৪ প্ৰপত্তি―ভূক্তি উপায়স্বরূপ হইয়া ভগবদ্বিষয়ানুভবরূপ যে উপেয় ভাবকে উৎপন্ন করে, তাহা প্রপত্তি। প্ৰপত্তি দুই প্রকার―আর্ত্তরূপ-প্ৰপত্তি ও দৃপ্তরূপ-প্ৰপত্তি। নিৰ্হেতুক ভগবৎ-প্রসাদে শাস্ত্রাভ্যাসে, আচার্যোপদেশক্রমে জ্ঞানোৎপত্তি হইলে ভগবদনুভব হয়। তখন ভগবদনুভবের বিপরীত দেহসম্বন্ধ দেশসম্বন্ধ ইত্যাদি দুঃসহ হইয়া উঠিলে শ্ৰীবেঙ্কটনাথের গর্ভ-জন্ম-জরাদি-ব্যধি-মরণাদি নিবর্ত্তকত্ব বিচারপূর্ব্বক গত্যন্তরশূন্য “আমি-দাস” এই বাক্যের সহিত শ্রীব্যেঙ্কটনাথের শরণাগত হইয়া নমস্কার করতঃ নিজ আৰ্ত্তি জ্ঞাপনপূর্ব্বক একান্ত অনুগত হওয়ার নাম আর্ত্তরূপ প্ৰপত্তি। দৃপ্ত প্রপত্তি যথা,―দৃপ্তপ্রপন্ন পুরুষ স্বর্গ-নরকে বিরক্তিপূর্ব্বক ভগবৎপ্রাপ্তিমানসে আচার্য্যোপদেশক্রমে উপায় স্বীকারপূর্ব্বক বিপরীত প্রবৃত্তিনিবৃত্তিপূর্ব্বক বেদবিহিত বর্ণাশ্রমানুষ্ঠান বাচিক, মানসিক ও কায়িক ভগবৎ-কৈঙ্কর্য্যের অনুষ্ঠান করেন। ঈশ্বরের শেষিত্ব, নিয়ন্তৃত্ব, স্বামিত্ব, শরীরীত্ব, ব্যাপকত্ব, ধারকত্ব, রক্ষকত্ব, ভোক্তৃত্ব, সর্ব্বজ্ঞত্ব, সর্ব্বশক্তিত্ব, সম্পূর্ণত্ব, পূর্ণকামত্ব এবং নিজের শেষত্ব, নিযাম্যত্ব, স্বত্ব, শরীরত্ব, ব্যাপ্যত্ব, ধার্য্যত্ব, রক্ষত্ব, ভোগ্যত্ব, অজ্ঞত্য, অশক্তত্ব, অপূর্ণত্ব অবগত হইয়া ঈশ্বরের কৃপানুসন্ধান করেন।
ঘ ৫ আচার্য্যাভিমান―আমি অশক্ত ও দীন, এই বুদ্ধিতে উপযুক্ত ভাগবত আচার্য্যের নিকট আপন দুঃখ জানাইয়া তাঁহার সহিত দৃঢ়সম্বন্ধে ভগবদ্ভজন করার নাম আচার্য্যাভিমান।
ঙ ১ স্বরূপবিরোধী ― দেহাত্মাভিমান অর্থাৎ এই জড়দেহে আত্মাভিমান, ভগবদ্দাস বলিয়া আপনাকে না জানা এবং নিজের স্বতন্ত্রতা―এই কয়টী স্বরূপ-বিরোধী।
ঙ ২ পরত্ববিরোধী ― দেবতান্তরে পরত্বপ্রতিপত্তি, সমত্ব-প্রতিপত্তি, ক্ষুদ্র দেবতাবিষয়ে শক্তি-যোগ-প্রতিপত্তি, অবতারে মনুষ্যত্ব প্রতিপত্তি, অর্চ্চাবতারে অশক্তিযোগ-প্রতিপত্তি―এইগুলি পরত্ববিরোধী।
ঙ ৩ পুরুষার্থ-বিরোধী ― ভগবৎকৈঙ্কর্য্যে অনিচ্ছা এবং ভুক্তি-মুক্তিরূপ পুরুষার্থান্তরে ইচ্ছা― এই দুইটী
পুরুষার্থবিরোধী।
ঙ ৪ উপায়বিরোধী ― উপায়ান্তরে প্রতিপত্তি ও উপায়ে লাঘববুদ্ধি এবং উপেয়তত্ত্বে গৌরব―এই তিনটী
উপায়বিরোধী।
ঙ ৫ প্রাপ্তিবিরোধী ― প্রারব্ধ শরীরে দৃঢ় সম্বন্ধ, অনুতাপশূন্যগুরূপসত্তি, ভগবদপচার, ভাগবতাপচার, গুরুতর অন্যাপচার প্রভৃতি প্রাপ্তিবিরোধী।
এই প্রকার অর্থপঞ্চকে জ্ঞানোৎপন্ন হইলে মুমুক্ষু-ব্যক্তির মোক্ষসিদ্ধি পর্য্যন্ত বর্ণাশ্রমানুরূপ অশনাচ্ছাদন স্বীকারপূর্ব্বক সকল পদার্থ ভগবন্নিবেদিত করিয়া প্রসাদ-প্রতিপত্তি-দ্বারা জীবনধারণ করিবেন। তত্ত্বজ্ঞানোৎপাদক গুরুর নিকট তাঁহার অভিমত আচরণ করিবেন। ঈশ্বরের নিকট সর্বদা দৈন্য, আচার্য্যের নিকট নিজের অজ্ঞতা, বৈষ্ণবের নিকট স্বীয় পারতন্ত্র্য, সংসারীর প্রতি উপেক্ষা প্রকাশ করিবেন। প্রাপ্যসাধনে অধ্যবসায়, বিরোধী বিষয়ে ভয়, ইতরবিষয়ে অরুচি, স্বদেহে অরুচি, স্বরূপজ্ঞান সংরক্ষণে আসক্তি করিবেন।
শ্রীমদ্গৌড়ীয় মতে ঐশ্বর্য্যপূর্ণ দাস্যরসবিচারে এই সমস্ত উপদেশই গ্রাহ্য। ঐশ্বর্য্যমিশ্র নারায়ণ-দাস্যরস ও মধুৰ্য্যমূলক কৃষ্ণদাস্যরসে যে সূক্ষ্ম প্রভেদ আছে, তাহা শ্ৰীমন্মহাপ্রভুর সেবকেরা অবগত আছেন। কৃষ্ণদাস্যরসেও এই অর্থপঞ্চকের উপদেশসকল সামান্য ভাবান্তর করিয়া লইলে কিছুমাত্র দোষ হয় না। এই দাস্যরসে বিশ্ৰন্ত-ভাব হইলে সখ্যরস হয়। তাহাতে আবার স্নেহযুক্ত হইলে বাৎসল্য হয়। সেইভাবে অসঙ্কোচ স্বাত্মনিবেদন জন্মিলে মহাপ্রভুর উপদিষ্ট মধুর-ভাব হয়। সুতরাং শ্রীমদ্ রামানুজ স্বামীর সিদ্ধান্তসমূহ আমাদের গৌড়ীয় প্ৰেম-মন্দিরের ভিত্তিস্বরূপ জানিয়া আমরা তাঁহাকে বারবার দণ্ডবৎ প্রণাম করি।